ছবিটিতে দেখতে পাচ্ছেন ২১ সপ্তাহ বয়সী সিমুয়্যেল আলেক্সজেন্ডার নামের অভূমিষ্ট একটি শিশুর হাত, অপারেশনটি করেছেন শল্যচিকিৎসক জোসেফ বার্ণার। ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই শিশুটি স্পাইনা বাইফিডা নামক রোগ ধরা পরে এবং তাকে যদি মায়ের গর্ভ থেকে অপারেশন করে বের করা না হতো তাহলে তাকে বাঁচানো যেত না।
স্পাইনা বাইফিডা একধরণের জন্মগত ত্রুটি যা নিউরাল টিউব (neural tube) নামক একটি ভ্রুনাংগের ত্রুটির কারনে হয়। এতে জন্ম নেয়া শিশুটির কশেরুকা (vertebra) নামক হাড়টির পেছনের অংশটি জোড়া লাগা অসম্পূর্ণ থাকে এবং এর ফলে মেরুদন্ডের অভ্যন্তরিস্থ স্পাইনাল কর্ড (spinal cord) এবং এর থেকে বের হয়ে আসা নার্ভ (nerve) গুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
ছোট্ট সিমুয়্যেলের মা জুলি আর্মাস পেশায় একজন নার্স। তিনি ডা. বার্ণাসের সার্জারীর খ্যাতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। ডা. বার্ণাস ভ্যানডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত আছেন এবং তিনি মায়ের গর্ভে শিশু থাকা অবস্থায় এধরণের অপারেশনে খুবই দক্ষ।
তিনি সিজারিয়ান-সেকশন করে মায়ের ইউটেরাস বের করে আনেন এবং তাতে ছোট্ট একটি ফুটো করেন শিশুটির অপারেশন করার জন্য। সেই ফুটো দিয়েই বেরিয়ে আসে খুবই সিমুয়্যেলের ছোট হাত যা খুব আলতো ভাবে সার্জনের হাতের আঙ্গুল মুঠো করে ধরে।
ডা. বার্ণার এই বিরল মূহুর্তকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন সময় বলে উল্লেখ করেন। তিনি ওই কিছু সময়ের জন্য একদম স্থির হয়ে গিয়েছিলেন।
আলোকচিত্রিও এই বিরল দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে ভুল করেননি।
ছবিটির নাম "আশার হাত"।


Comments
Post a Comment